দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

৫ আগস্টের পর একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে শিশুশ্রম নিরসন ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একইসঙ্গে নিজ ঘরে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে না রাখার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে ‘শিশুশ্রম নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এএসডি আয়োজিত এ সংলাপে তিনি নির্বাহী বিভাগের কাজের জবাবদিহিতা ও তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশে অনেক ভালো আইন থাকলেও প্রয়োগের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, ‘আইনের প্রয়োগ যারা করবেন তারা অনেক সময় কম্প্রোমাইজড হয়ে যান। প্রভাবশালীদের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেয় না। আমরা সবসময় রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনি। কিন্তু সরকারের নির্বাহী বিভাগে যারা কাজ করেন, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয় না। একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র পেতে হলে নির্বাহী বিভাগের কাজের কড়া সমালোচনা ও তদারকি করতে হবে।’
বর্তমান সরকারের প্রধান নির্বাহীর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পথশিশুদের দাওয়াত দিয়ে খাইয়েছেন। পথশিশুরাও যে একটি সুন্দর জীবনের দাবিদার তিনি সেটি অনুধাবন করতে পেরেছেন। হয়তো তিনি একটি পরিসংখ্যান নিচ্ছেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের রাস্তা থেকে ঘরে ফেরানোর পরিকল্পনা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। ছোট ছোট এসব মানবিক উদ্যোগগুলোকে যেন আমরা রাজনীতিকরণ না করি সেই অনুরোধ জানাই।’
জুলাই অভ্যুত্থানে শিশুদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘জাতিসংঘের হিসাব মতে জুলাই আপরাইজিংয়ে প্রায় ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশই শিশু। সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ হওয়ায় শিশুরাই সবসময় বেশি ভিকটিম হয়। আজ শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে উত্তরণে সর্বাগ্রে গণসচেতনতা প্রয়োজন।’
এ সময় শিশুদের সুরক্ষায় সরকারি হেল্পলাইন ‘১০৩৮’ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
সংলাপে শিশুদের কল্যাণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ‘১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম শিশুদের কল্যাণে শাহবাগে শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠাসহ নানা কর্মযজ্ঞ হাতে নেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের ৫ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিশুদের জন্য পৃথক একটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন এবং অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন।’
সংলাপে উপস্থিত এনজিও প্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিকদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে যাচ্ছি। আমাদের হতাশা আছে কিন্তু প্রত্যাশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আসুন আজ আমরা এই কক্ষ থেকেই শপথ নিই, আমাদের ঘরে ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখব না।’
যেকোনো অনিয়ম ও শিশু অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সবার আগে তুলে ধরতে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আইএলও প্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা, মানবাধিকার কর্মী ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম/